দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী সপ্তাহ থেকে দেশে গ্যাসের সংকট কিছুটা কমতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এ সংকট নিরসনে সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়েছে। তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।’
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট দেশীয় উৎপাদন থেকে আসে, বাকি অংশ আমদানি করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এক্সিলারেট এনার্জির একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটি মেরামতের আশা করলেও পরে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ এনে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এফএসআরইউতে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ পুনরুদ্ধার এবং তার পরের সপ্তাহে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
সরকার এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস ও প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে। ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। অতীতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের ওপর নির্ভরশীলতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমএম/